যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রের পানি থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি তৈরির এক অভিনব সৌর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপটিকস অ্যান্ড ফিজিক্স বিভাগের অধ্যাপক চুনলেই গুও এবং তার নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এই পদ্ধতিটি তৈরি করেছেন, যা পরিবেশের ক্ষতি না করেই সমুদ্রের লোনা পানিকে পানযোগ্য করে তোলে। এই আবিষ্কারটি বিশ্বের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথাগত লবণাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় সমুদ্রের পানিকে রিভার্স অসমোসিস বা তাপীয় পাতন পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয় এবং প্রচুর পরিমাণে অত্যন্ত লবণাক্ত বর্জ্য বা ‘ব্রাইন’ তৈরি হয়, যা পুনরায় সমুদ্রে ছেড়ে দিলে সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। নতুন প্রযুক্তিতে সেই সমস্যার সমাধান মিলেছে।
গবেষকরা লেজার-এচড ব্ল্যাক মেটাল দিয়ে তৈরি সৌর প্যানেল ব্যবহার করেছেন। এই ধাতব প্যানেল সূর্যালোক শোষণে অত্যন্ত কার্যকর। প্যানেলের উপরিভাগে বিশেষ মাইক্রোস্কোপিক খাঁজ কাটা থাকায় পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয় এবং লবণের কণাগুলোকে প্যানেলের নিষ্ক্রিয় অংশে সরিয়ে দেয়। এতে প্যানেলের উপরিভাগে লবণের আস্তরণ জমে কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
এই পদ্ধতির অন্যতম বিশেষত্ব হলো, এতে কোনো তরল লবণাক্ত বর্জ্য তৈরি হয় না। পানি বাষ্পীভূত হওয়ার পর অবশিষ্ট লবণ কঠিন আকারে জমা হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই প্রক্রিয়ায় শুধু পানিই বিশুদ্ধ হচ্ছে না, বরং সমুদ্রের পানি থেকে লিথিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও সংগ্রহ করা সম্ভব। লিথিয়াম বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি ও স্মার্টফোন তৈরিতে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গবেষক দলের দাবি, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনিজ আহরণের প্রচলিত ব্যয়বহুল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতির বিকল্প খুঁজে পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে এটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও প্রযুক্তিটি বড় পরিসরে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে একদিকে যেমন ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য সুপেয় পানির নিশ্চয়তা মিলবে, অন্যদিকে সমুদ্রের পানি থেকে মূল্যবান খনিজ সম্পদ সংগ্রহ করা সহজ হবে।