ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দলটির বলের দখল ৫০ শতাংশের নিচে থাকলে জয়ের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যখন ইউনাইটেড বলের দখলে পিছিয়ে থাকে, তখন তাদের প্রতি ম্যাচ পয়েন্ট অর্জনের হার ২.৬, যা বলের দখল বেশি থাকলে নেমে আসে ১.৫-এ। গত মৌসুম থেকে বলের দখল ৪৫ শতাংশ বা তার নিচে থাকা ১০টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ক্লাবটি। এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন কোচ ক্যারিক।
প্রতিপক্ষ যখন ইউনাইটেডকে বল দিয়ে দেয় এবং রক্ষণভাগ জমাট রাখে, তখন গোল করা দলটির জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকা সম্প্রতি এক ডার্বি ম্যাচের পর বিশ্লেষণ করেন যে, ইউনাইটেড মূলত প্রতি-আক্রমণ বা ট্রানজিশন এবং ফাঁকা জায়গা খুঁজে বের করতে পছন্দ করে। প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ নিচে নামিয়ে দিলে তারা আর সেই সুবিধা নিতে পারে না।
ইউনাইটেডের এই খেলার ধরন ক্লাবের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সাথেও সম্পর্কিত। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন থেকে শুরু করে ওলে গুনার সোলশায়ার পর্যন্ত কোচেরা আক্রমণাত্মক ও দর্শকপ্রিয় ফুটবলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ক্যারিকও সেই ধারা বজায় রেখে সরাসরি ফুটবল খেলার ওপর জোর দিচ্ছেন। মার্কাস রাশফোর্ড বা ব্রুনো ফার্নান্দেজের মতো খেলোয়াড়দের সক্ষমতাও মূলত ট্রানজিশনাল ফুটবলের জন্যই বেশি উপযুক্ত।
তবে বর্তমান আধুনিক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে ভেঙে গোল করতে হলে দলের খেলোয়াড়দের ১ বনাম ১ পরিস্থিতিতে দক্ষ হতে হয়, যেখানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পিছিয়ে আছে। তাদের বর্তমান কৌশলে ফুলব্যাকদের ভূমিকা ও উইঙ্গারদের ড্রিবলিং ক্ষমতার ঘাটতি দলটিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করছে। আগে সেট-পিস থেকে গোল পাওয়াটা তাদের জন্য একটি ভরসা ছিল, তবে এ মৌসুমে সেটিও আগের মতো কার্যকর হচ্ছে না। ফলে রক্ষণাত্মক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল করা এখন দলটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।