যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য প্রশাসনের চরম অবহেলা ও বেপরোয়া সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তির আগের দিন পরিবারের আইনজীবীরা এই আইনি নোটিশটি দাখিল করেন, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মামলার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৩১ বছর বয়সী চার্লি কার্ক গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হাজারো মানুষের সামনে বক্তব্য রাখার সময় ছাদের ওপর অবস্থান নেওয়া এক বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারান। পরিবারের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। বিশেষ করে, অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশের উঁচু ভবনগুলোর ছাদ সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে আসা সতর্কবার্তাগুলো আমলে নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কার্কের মতো একজন বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে খোলা আকাশের নিচে এমন একটি স্থানে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল, যা ছিল মূলত একটি ফাঁদ বা ‘ফিশবোল’-এর মতো। অনুষ্ঠানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন না থাকা এবং ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স না থাকার মতো বিষয়গুলোকেও কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আইনি নোটিশের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে এই মুহূর্তে তারা আর কোনো মন্তব্য করবে না। তাদের মূল লক্ষ্য এখন ক্যাম্পাস কমিউনিটিকে সহায়তা প্রদান করা।
উল্লেখ্য, কার্ককে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ২৩ বছর বয়সী টাইলার রবিনসনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তার বিরুদ্ধে আনা ‘অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডার’সহ অন্যান্য অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। কার্কের পরিবারের আইনজীবীরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ছাদ থেকে হামলার ঘটনার পর কার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়া উচিত ছিল, যা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।