যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াতে ভৌত গবেষণার জন্য একটি বায়ো ল্যাব বা জীববিজ্ঞানের গবেষণাগার স্থাপন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানের লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান এরিক কৌদেরার-আব্রামস রয়টার্সকে এই ল্যাবের অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জীববিজ্ঞানের প্রকৃত পরীক্ষার জন্য বাস্তব ল্যাবরেটরিতে কাজ করা জরুরি এবং তারা বর্তমানে সেখানেই কাজ করছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনে তারা বিভিন্ন বাহ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাথেও যৌথভাবে কাজ করছেন।
গবেষণার বিষয়বস্তু
অ্যানথ্রোপিক ঠিক কী ধরনের গবেষণা চালাচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে গত জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি ক্লাউড সায়েন্স নামে একটি ওষুধ আবিষ্কার কর্মসূচি শুরু করেছে। ওই কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি এমন সব গবেষণায় আগ্রহী, যা সাধারণত বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে লাভজনক নয় ভেবে এড়িয়ে যায়। তবে অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ল্যাবটি কেবল ওষুধ আবিষ্কারের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়।
প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, অ্যানথ্রোপিক তাদের এআই মডেল ক্লাউডকে ব্যবহার করে রোবটের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে এরিক কৌদেরার-আব্রামস জানান, এআই ব্যবহার করে ল্যাবের কাজ স্বয়ংক্রিয় করার প্রক্রিয়াটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত মানুষের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য। বর্তমানে কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সতর্কতা
অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের মতোই অ্যানথ্রোপিককে বর্তমানে জনগণের আস্থার সংকটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সম্প্রতি এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টাকারী কয়েকজন বিজ্ঞানীকে চিহ্নিত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদি শক্তিশালী এআই প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি কমাতে উন্নত প্রযুক্তির বিকাশ কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন।