ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হওয়ার চারটি সতর্ক সংকেত জানালেন হারিকেন হান্টাররা

September 20, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ মায়ামির রোজেনস্টাইল স্কুল অফ মেরিন, অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সের গবেষকরা ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হওয়ার চারটি বিশেষ সংকেত শনাক্ত করেছেন। দীর্ঘ তিন দশকের হারিকেন হান্টার বা ঘূর্ণিঝড় শিকারি বিমানের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন রোজেনস্টাইল স্কুলের বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইকেল এস. ফিশার।

সাধারণত একটি ঘূর্ণিঝড় তখনই প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যখন এর কেন্দ্রবিন্দু উল্লম্বভাবে বা লম্বালম্বিভাবে সুসংগঠিত হয়। বাতাসের প্রভাবে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র যদি হেলে থাকে, তবে তা শক্তিশালী হতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, হেলে থাকা কোনো ঘূর্ণিঝড় কখন সোজা হয়ে শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে শুরু করবে, তা আগেভাগেই বোঝা সম্ভব।

গবেষকদের শনাক্ত করা চারটি সতর্ক সংকেত হলো: সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি বাতাসের ঘূর্ণন অত্যন্ত সুসংগঠিত ও ঘন হওয়া, বাতাসের গতির বিপরীতে ঘূর্ণিঝড়ের হেলানো অবস্থানের ভারসাম্য, ঘূর্ণিঝড়ের নিম্নস্তরের কেন্দ্রের কাছে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঘূর্ণিঝড়ের চারপাশের উষ্ণ সমুদ্র ও পর্যাপ্ত আর্দ্রতা।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

এই আবিষ্কার উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় বা হারিকেন দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠলে কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য খুব কম সময় পায়। গবেষকদের মতে, এই চারটি সংকেত আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে দুর্যোগ মোকাবিলাকারী সংস্থাগুলো আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যাবে।

গবেষণার পটভূমি

গবেষক দল ১৯৯৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২৮টি হারিকেন মৌসুমের ১,৫১০টি রাডার বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। ফিশার জানান, যে ঝড়গুলো পরবর্তীতে শক্তিশালী হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা আগেই এই বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা গিয়েছিল। মূলত বজ্রঝড়গুলো কেবল দুর্যোগের চিহ্নই নয়, বরং এগুলো ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণন প্রক্রিয়াকে সোজা করতেও সাহায্য করে বলে তারা মনে করছেন। এই ফলাফলটি ‘জার্নাল অফ জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: অ্যাটমোস্ফিয়ারস’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Comment