নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের রাজধানী মিন্না শহরের একটি কারাগারে ভয়াবহ গরমে ৩৩ জন বন্দির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। বেঁচে যাওয়া বন্দি উসমান মুহাম্মদ জানান, কারাগারের ছোট একটি কক্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে আটকে রাখা হয়েছিল, যেখানে অসহনীয় উত্তাপে অনেকে মারা গেছেন।
ঘটনার পটভূমি
নাইজেরিয়া সিকিউরিটি অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কোর (এনএসসিডিএ) অবৈধ খনি খননের অভিযোগে গত মঙ্গলবার ও বুধবার একদল শ্রমিককে গ্রেফতার করে মিন্না শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখে। প্রায় ৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের সেই কক্ষে বাতাসের চলাচল ছিল খুবই সীমিত। উসমান মুহাম্মদ জানান, সে সময় কারাগারের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
কারাগারে বন্দিদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মিন্না শহরে বিক্ষোভ হয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডিপথেরিয়া রোগের কথা বললেও বিষয়টি নিয়ে এখন সরকারি পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।
বেঁচে যাওয়া বন্দিদের বর্ণনা
উসমান মুহাম্মদ জানান, কক্ষের ভেতরের তাপমাত্রা আগুনের মতো অনুভূত হচ্ছিল। বন্দিরা পানি চাইলেও কারারক্ষীরা কোনো সহায়তা করেননি। আরেক বন্দি আদামু ইসাহ বলেন, অনেকে শ্বাস নিতে না পেরে মারা গেছেন, কিন্তু রক্ষীরা তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
নাইজার রাজ্যের গভর্নর উমারু বাগো এই ঘটনাকে অমানবিক হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারিভাবে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অবহেলার অভিযোগে এনএসসিডিএ’র নাইজার রাজ্য কমান্ড্যান্ট সুবেরু আনিভিয়েসহ ২৪ জন কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুবুমি তুনজি-ওজো জানিয়েছেন, দোষী প্রমাণিত হলে কোনো কর্মকর্তাকেই ছাড় দেওয়া হবে না।