যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় দেশের সরকার একে অপরের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কানাডার ক্যালগরির জুয়েলারি ব্যবসায়ী সিন্ডি বালদাসি জানিয়েছেন, এই নতুন শুল্কের ফলে তার মার্কিন বাজারের প্রায় অর্ধেক ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। টিকে থাকার জন্য তাকে পণ্যের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হতে পারে বলে তিনি জানান।
শুল্কের প্রভাব
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক্সের ওপর শুল্ক কার্যকর হবে। এর বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে কানাডার ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংকট
টরন্টোভিত্তিক পোশাক ব্র্যান্ড আউটক্লাসের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাতেও স্গারামেল্লা জানান, আগেভাগে নেওয়া অর্ডারের ওপর হঠাৎ এই শুল্কের বোঝা চাপানো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বিপর্যয়কর। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডেও। সেখানে পালমা ক্লথিংয়ের মালিক মাইক রোচ ও কিম অসগুড জানিয়েছেন, তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপহার সামগ্রীর দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সীমান্তবর্তী ব্যবসার দুর্দশা
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের বেলিংহামের বাসিন্দা হিদার সিভার্স জানিয়েছেন, বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে তার দোকানে কানাডীয় ক্রেতাদের উপস্থিতি ২০ শতাংশ কমেছে। তিনি মনে করেন, এই নতুন শুল্ক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াইন ব্যবসায়ী বিল ইস্টন জানিয়েছেন, দেড় বছর ধরে কানাডায় পণ্য রপ্তানি করতে না পারায় তার ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।