চীনের বেইজিং, হাংঝু ও চেংদুসহ বিভিন্ন শহরে বর্তমানে এক নীরব যান্ত্রিক বিপ্লব চলছে, যা দেশটির উৎপাদন ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ২০ বিলিয়ন ডলারের উদ্ভাবনী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীন বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে শীর্ষে পৌঁছানো।
চীনের বিভিন্ন কারখানায় বর্তমানে ২০ লাখেরও বেশি রোবট কাজ করছে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। হাংঝু টেকনিশিয়ান ইনস্টিটিউটের মতো বিশেষায়িত ভোকেশনাল স্কুলগুলোতে নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষক চেন তিয়ানইউর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্সের এই যুগে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।
চেংদুর একটি কারখানায় সরেজমিনে দেখা যায়, রোবটিক হাত তৈরির কাজে পুরনো কর্মীবাহিনীর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। শিল্প মালিকদের দাবি, একটি রোবটিক হাত কারখানার ৯০ শতাংশের বেশি পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। মূলত জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক শ্রমিকের হার বেড়ে যাওয়ায় ২০৩৫ সাল নাগাদ কর্মসংস্থানের ঘাটতি পূরণে বেইজিং এই অটোমেশনের দিকে ঝুঁকছে।
তবে এই দ্রুত অটোমেশন নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। চীনের উৎপাদন খাতে বর্তমানে প্রায় ১২ কোটি মানুষ কর্মরত। অটোমেশনের গতি খুব দ্রুত হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন হার্ডওয়্যার নির্মাণে এগিয়ে থাকলেও সফটওয়্যার বা এআই উদ্ভাবনে এখনো লড়াই করছে। তবে ওপেন-সোর্স প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে চীন সেই ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনছে।
বর্তমানে দেশটির সামনে আবাসন সংকট ও ঋণের মতো বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এমতাবস্থায় রোবটিক বিপ্লব শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে নাকি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবুও প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।