ডিজিটাল কার কি: ব্যবহারের সুবিধা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি

August 25, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল এবং গুগলসহ বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল কার কি প্রযুক্তি গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক ক্রিস্টিন পারসড ডিজিটাল কার কি ব্যবহারের সুবিধা ও এর ঝুঁকিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। মূলত স্মার্টফোনকে গাড়ির চাবি হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রযুক্তি গাড়ি ব্যবহারের ধরনে বড় পরিবর্তন আনলেও এর নিরাপত্তা ও ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ডিজিটাল কার কি কীভাবে কাজ করে

অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্ল্যাটফর্মে গুগল ওয়ালেট বা অ্যাপল ওয়ালেটের মাধ্যমে ডিজিটাল কার কি ব্যবহার করা যায়। কার কানেক্টিভিটি কনসোর্টিয়াম ২০১৮ সালে এই প্রযুক্তির মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এই প্রযুক্তি মূলত আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড (UWB) বা নিয়ার-ফিল্ড কমিউনিকেশন (NFC) ব্যবহার করে গাড়ির সাথে সংযোগ স্থাপন করে, যা প্রচলিত কি ফব-এর রিলে অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমায়।

নিরাপত্তা ও ঝুঁকির দিক

ডিজিটাল কার কি প্রযুক্তি রিলে অ্যাটাক থেকে নিরাপদ হলেও ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে গাড়ির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তবে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং রিমোট ওয়াইপিং সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের গাড়ি সুরক্ষিত রাখতে পারেন। আইফোনের ক্ষেত্রে ডিভাইসটি হারিয়ে গেলে তা ‘লস্ট’ মোডে সেট করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার কি লক হয়ে যায়।

ফোন বন্ধ হয়ে গেলে করণীয়

অনেকের ধারণা ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে গাড়ি খোলা বা চালু করা সম্ভব হবে না। কিন্তু আধুনিক ডিজিটাল কার কি প্রযুক্তিতে রিজার্ভ পাওয়ারের ব্যবস্থা থাকে। স্মার্টফোনের ব্যাটারি শেষ হওয়ার পরও এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি খোলা ও চালু রাখা সম্ভব। এছাড়া কারিগরি ত্রুটি বা অ্যাপ ক্র্যাশ করার মতো বিরল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সবসময় বিকল্প হিসেবে সাধারণ চাবি বা কি ফব সাথে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment