ইউক্রেনের পেট্রোল পাম্পে রাশিয়ার ড্রোন হামলা

August 26, 2026

ইউক্রেনের খারকিভ শহরে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুটি পেট্রোল স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন আহত হয়েছেন। সোমবার শহরের মেয়র ইগর তেরেখভ গাড়িচালকদের দ্রুত তেল নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। পেট্রোল স্টেশনে হামলা চালানোর ঘটনাকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে ইউক্রেনের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে অচল করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। এর আগে গত সপ্তাহে ক্রিভি রিহ শহরের কাছে আরেকটি পেট্রোল স্টেশনে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাস থেকে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্রতর হয়েছে। এনার্জি থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ‘নাফত রিনক’-এর বিশ্লেষক ওলেক্সানদ্র সিরেনকোর তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ইউক্রেনজুড়ে অন্তত ২৪৬টি ফিলিং স্টেশনে রুশ হামলা হয়েছে। জুলাই মাসে এই ধরনের ১১৪টি হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

নিরাপত্তা সতর্কতা

এই হামলার ভয়াবহতার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের পুলিশ সতর্কবার্তা জারি করেছে। আকাশপথে হামলার সাইরেন বাজার সাথে সাথে গাড়িচালকদের পেট্রোল স্টেশন ত্যাগ করার বা প্রয়োজনে গাড়ি ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। হামলা থেকে বাঁচতে অনেক স্থানে পেট্রোল স্টেশনগুলোতে আর কর্মীদের দেখা মিলছে না।

হামলার ধরণ ও ক্ষয়ক্ষতি

শুরুর দিকে ছোট ড্রোন ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে রাশিয়া ইরানের তৈরি দামি ও ধ্বংসাত্মক ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করছে। বিশ্লেষক সিরেনকো জানান, একটি পেট্রোল স্টেশনের ওপর পাঁচটি শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে ড্রোনের মূল্যই পেট্রোল স্টেশনের অবকাঠামোর চেয়ে বেশি। খেরসন ও ত্রোস্তিয়ানেৎসসহ বেশ কিছু এলাকায় পেট্রোল স্টেশন অকার্যকর হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ এখন ভ্রাম্যমাণ ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের চেষ্টা করছে।

জ্বালানি সরবরাহ ও রাশিয়ার পরিস্থিতি

ইউক্রেনের জাতীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মাত্র ৪ শতাংশ পেট্রোল স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূলত ইউক্রেন বড় শোধনাগারের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ায় এবং বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment