বিশ্বের ২২টি দেশে একযোগে পরিচালিত অভিযানে পশ্চিম আফ্রিকার সাইবার অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। ‘অপারেশন জ্যাকল ফোর’ নামের এই অভিযানে সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ২৬৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারপোলের আর্থিক অপরাধ বিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক তোমোনোবু কায়া জানিয়েছেন, আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধী চক্রগুলোর অর্থ প্রবাহের উৎস ধ্বংস করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পশ্চিম আফ্রিকার ব্ল্যাক এক্স-এর মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া আর্থিক প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ রোধে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অপারেশন জ্যাকল ফোর
২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে রোমান্স স্ক্যাম বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা এবং বিনিয়োগের নামে জালিয়াতি রোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই চক্রগুলো অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ পাচার করতে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ইমেইল জালিয়াতির সহায়তা নিত। এছাড়া নাবালকদের যৌন হয়রানির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের মতো ভয়ংকর প্রবণতাও তাদের কর্মকাণ্ডে লক্ষ্য করা গেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বড় সাফল্য
এই অভিযানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ইন্টারপোল বড় ধরনের অভিযান চালায়। সেখানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সাতটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইসঙ্গে ২.৬৭ মিলিয়ন ডলার জব্দ এবং ২৫৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইতালি এবং রোমানিয়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়েছে।
পেশাদার অপরাধী চক্র
ইন্টারপোল জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার এই নেটওয়ার্কগুলো কেবল সাইবার জালিয়াতিই নয়, বরং মানব পাচার ও পতিতাবৃত্তির মতো সহিংস অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। বিশেষ করে নাইজেরিয়াভিত্তিক ‘ব্ল্যাক এক্স’ গ্রুপটি আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র হিসেবে সক্রিয়। উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিদের নিয়োগের মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী তাদের অপরাধ সাম্রাজ্য বিস্তার করে চলেছে। গত কয়েক বছর ধরে ইন্টারপোল এ ধরনের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে এবং অপারেশন জ্যাকল ফোর তারই ধারাবাহিকতার একটি অংশ।