দুই বছর বয়সের আগে খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে

August 27, 2026

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এক গবেষণায় জানিয়েছেন, জীবনের প্রথম দুই বছরে শিশুর খাদ্যাভ্যাস তাদের ৭০ বছর পরের স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশুরা তাদের জীবনের প্রথম ১০০০ দিনে অর্থাৎ গর্ভকাল থেকে দ্বিতীয় জন্মদিন পর্যন্ত তুলনামূলক কম চিনি খেয়েছে, পরবর্তী জীবনে তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কম। সেই সাথে তাদের কোষীয় বার্ধক্যের গতিও ধীর লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষণাটি পরিচালনার জন্য বিজ্ঞানীরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী যুক্তরাজ্যের চিনির রেশনিং ব্যবস্থা বা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ নীতিকে প্রাকৃতিক পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ১৯৫৩ সালের সেপ্টেম্বরে রেশনিং উঠে যাওয়ার পর সাধারণ মানুষের চিনি খাওয়ার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। গবেষকরা ১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৪ হাজার মানুষের ওপর তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন।

প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, যারা শৈশবে রেশনিংয়ের কারণে কম চিনি খাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, বড় হওয়ার পর তাদের স্তন, প্রোস্টেট, লিভার, মলাশয় এবং ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার অন্যদের চেয়ে কম। লিভার ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত কম পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, শৈশবের খাদ্যাভ্যাস কেবল শারীরিক গঠনের ওপরই প্রভাব ফেলে না, বরং এটি মানুষের স্বাদ ও রুচিকেও দীর্ঘস্থায়ীভাবে বদলে দেয়। দেখা গেছে, ৫০ বছর বয়সেও ওই ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় চিনি কম খাচ্ছেন এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করছেন। বার্ধক্য পরিমাপের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে, যা প্রায় ২.২ বছরের সমপরিমাণ ধীরগতির বয়সের ছাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

Leave a Comment