ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চায় রাশিয়া: পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি

August 29, 2026

রাশিয়ার মস্কোতে পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনকে সহায়তার কারণে যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেও তিনি সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়াতে চান। এই কর্মকর্তারা মনে করেন, ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হুমকিগুলো দেশটির সামরিক মতবাদেরই অংশ, যার মাধ্যমে তারা পশ্চিমা বিশ্বের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চায়।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের মতে, সিআইএ প্রধান জন র‍্যাডক্লিফের সাম্প্রতিক মস্কো সফরের উদ্দেশ্য ছিল ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে সতর্ক করা। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রিটিশ বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা বা তাদের অস্ত্র কারখানা ধ্বংসের মতো রাশিয়ার সাম্প্রতিক হুমকিগুলো নতুন কিছু নয়।

অভ্যন্তরীণ চাপ ও যুদ্ধের পরিস্থিতি

কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার ধীরগতির অগ্রগতি এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর দীর্ঘপাল্লার হামলার কারণে পুতিন অভ্যন্তরীণভাবে চাপের মুখে রয়েছেন। এ ছাড়া রাশিয়ায় জ্বালানি তেলের ঘাটতি যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ পুতিনের ক্ষমতার জন্য বড় কোনো হুমকি তৈরি করছে না বলেই মনে করছেন তারা।

হাইব্রিড যুদ্ধের ঝুঁকি

সরাসরি যুদ্ধ এড়ালেও রাশিয়া সাইবার হামলা, অন্তর্ঘাত এবং গুপ্তহত্যার মতো ‘হাইব্রিড কার্যক্রম’ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক ড্রোন ঘটনাগুলোর পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ থাকলেও মস্কো তা অস্বীকার করেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে দুই পক্ষই দীর্ঘপাল্লার হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলে ধীরগতিতে অগ্রগতি হলেও সেখানে প্রচুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। প্রতি মাসে রাশিয়া যত নতুন সেনা নিয়োগ করতে পারছে, তার চেয়ে ছয় হাজার বেশি সেনা নিহত বা আহত হচ্ছে। তবুও নতুন করে ব্যাপক সেনা সমাবেশের কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

Leave a Comment