যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল ইনকরপোরেশনের তৈরি ম্যাকবুক স্লো হয়ে গেলে বা কাজের গতি কমে গেলে ব্যবহারকারীকে প্রথমেই কিছু নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক নোভাক বোজোভিচ তার প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, স্টোরেজ সমস্যা, অতিরিক্ত মেমোরির ব্যবহার বা ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকা অ্যাপের কারণেই সাধারণত ম্যাকবুক ধীরগতির হয়ে পড়ে। ফ্যাক্টরি রিসেট বা হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের আগে এই সমস্যাগুলোর উৎস শনাক্ত করাই হলো মূল সমাধান।
প্রাথমিক পদক্ষেপ
ম্যাকবুক স্লো মনে হলে সবার আগে ডিভাইসটি রিস্টার্ট দেওয়া উচিত। অনেক সময় সাময়িক ত্রুটির কারণে এমনটি হতে পারে। রিস্টার্ট দেওয়ার পর কিছুদিন ব্যবহারের সময় যদি সমস্যাটি আবারও দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ বা সিস্টেম সেটিংসে ত্রুটি রয়েছে।
স্টোরেজ ও মেমোরি চেক
ম্যাকের সিস্টেম সেটিংসের স্টোরেজ অপশনে গিয়ে দেখা সম্ভব কী পরিমাণ জায়গা দখল হয়ে আছে। জায়গা খালি করতে অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করা যেতে পারে। এছাড়া অ্যাক্টিভিটি মনিটর টুলটি ব্যবহার করে সিপিইউ এবং মেমোরির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। যদি কোনো অ্যাপ অস্বাভাবিকভাবে মেমোরি দখল করে রাখে, তবে সেটি বন্ধ করে দিলে দ্রুত গতি পাওয়া সম্ভব।
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ
অনেক অ্যাপ কম্পিউটার চালু হওয়ার সাথে সাথেই ব্যাকগ্রাউন্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। সিস্টেম সেটিংসের লগইন আইটেমস থেকে এগুলো বন্ধ করা যায়। এছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি অপশনটি যাচাই করে দেখা উচিত কোন অ্যাপগুলো আপনার অজান্তে কাজ করছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করাও কাজের গতি বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায়।
পাওয়ার মোড ও আপডেট
ম্যাকবুকের ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে দেখুন পাওয়ার মোড ঠিক আছে কি না। লো পাওয়ার মোড চালু থাকলে কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়। স্বাভাবিক ব্যবহারের জন্য অটোমেটিক মোড ব্যবহার করাই শ্রেয়। এছাড়া ম্যাকওএস নিয়মিত আপডেট রাখা জরুরি, কারণ নতুন আপডেটে বিভিন্ন সফটওয়্যার ইনকমপ্যাটিবিলিটিজনিত সমস্যা সমাধান করা থাকে।
গভীরতর সমস্যা সমাধান
যদি উপরের পদক্ষেপগুলোতে কাজ না হয়, তবে সেফ মোড ব্যবহার করে সফটওয়্যারজনিত জটিলতা পরীক্ষা করা যেতে পারে। এছাড়া ডিস্ক ইউটিলিটির ফার্স্ট এইড টুল ব্যবহারের মাধ্যমে ডিস্কের কোনো ফরম্যাটিং বা ডিরেক্টরি এরর আছে কি না তাও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।