ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরু না করার পক্ষে আইসল্যান্ড

August 30, 2026

আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। প্রায় ১৩ বছর আগে ইইউতে যোগদানের আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, যা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আয়োজিত এই গণভোটে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ভোটারের মধ্যে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ আলোচনার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোত্তির জানিয়েছেন, তার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন আর এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা হবে না। গণভোটের এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের হার ছিল ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ।

ইইউতে যোগদানের বিষয়ে ভোটারদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মৎস্য শিল্প ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষার বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছে। আইসল্যান্ডের অর্থনীতিতে মৎস্য শিল্পের অবদান প্রায় ৪০ শতাংশ। ইইউতে যোগ দিলে তাদের জলসীমায় মাছ ধরার অধিকার এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় ভোটাররা নেতিবাচক রায় দিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আইসল্যান্ড বর্তমানে ইউরোপীয় একক বাজার এবং শেনজেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টি তাদের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ইস্যু। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর ২০০৯ সালে দেশটি ইইউতে যোগদানের আবেদন করেছিল, কিন্তু ২০১৩ সালে ইউরোসেপটিক বা ইইউবিরোধী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে।

যদিও নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে গণভোটের ডাক দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং মাছ ধরার অধিকারই আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল। বিফ্রোস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এইরিকুর বার্গম্যানের মতে, ‘না’ প্রচারকারীরা জাতীয় পরিচয় এবং স্বাধীনতার আবেগটি মানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিল।

Leave a Comment