ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

September 1, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান পুনর্বিবেচনার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, আমি সব সময় সব অবস্থানই পর্যালোচনা করি। এটি সেগুলোর মধ্যে একটি মাত্র। এর আগে ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোকে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রস্তাব তৈরি করছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবির বিরোধিতা করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী উমা কুমারান বলেছেন, ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ব্রিটেনের কোনো সন্দেহ নেই। দ্বীপের বাসিন্দারা ব্রিটিশ হিসেবেই থাকতে চান এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি যুক্তরাজ্য অবিচল। ব্রিটিশ এমপি ডেম এমিলি থর্নবেরি ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৩.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার যে প্রতিশ্রুতি তার পূর্বসূরি স্যার কিয়ার স্টারমার দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ফকল্যান্ড নিয়ে তাদের পূর্বের অবস্থানেই অটল রয়েছে।

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত চুক্তি নিয়েও বর্তমানে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। মরিশাসের কাছে চাগোস হস্তান্তর করার চুক্তিটি ট্রাম্পের সমর্থনের অভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে। মন্ত্রী উমা কুমারান জানিয়েছেন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাজ্যের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয়।

Leave a Comment