নারীর অধিকার আদায়ে বৈপ্লবিক নেতৃত্ব: গ্লোরিয়া স্টাইনেমের বর্ণাঢ্য জীবন

September 4, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসকারী প্রখ্যাত নারীবাদী কর্মী গ্লোরিয়া স্টাইনেম কয়েক দশক ধরে বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার ও সমতার লড়াইয়ে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। আইকনিক এভিয়েটর সানগ্লাস এবং সাহসী বক্তব্যের জন্য পরিচিত স্টাইনেম গর্ভপাত আইন, সমান বেতন এবং নারী স্বাধীনতার দাবিতে আজীবন সরব ছিলেন। তার এই দীর্ঘ যাত্রাকে নারী আন্দোলনের ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শৈশব ও সংগ্রামের শুরু

১৯৩৪ সালের ২৫ মার্চ ওহাইও’র টলেডোতে জন্মগ্রহণ করেন গ্লোরিয়া স্টাইনেম। তার শৈশব ছিল প্রতিকূলতায় ঘেরা। মাত্র ১০ বছর বয়সে তার বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যান এবং মানসিকভাবে অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার পুরো দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। এই অভিজ্ঞতা তাকে ছোটবেলা থেকেই এক ধরনের বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল, যা পরবর্তীতে তার সক্রিয়তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

সাংবাদিকতায় ব্রেকথ্রু

ষাটের দশকের শুরুতে নিউইয়র্কে ক্যারিয়ার গড়ার সময় পুরুষশাসিত সংবাদমাধ্যমে কাজ পাওয়া ছিল চ্যালেঞ্জিং। ১৯৬৩ সালে প্লেবয় ক্লাবে ছদ্মবেশে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি লিখেছিলেন ‘আ বানি’স টেল’ শিরোনামে একটি সাড়া জাগানো প্রতিবেদন। সেখানে তিনি নারীদের প্রতি শোষন ও বৈষম্যের চিত্র উন্মোচন করেন। এরপর বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে কাজ করলেও তার ওপর ব্যক্তিগত ও পেশাগত নানা চাপ অব্যাহত ছিল।

মিস ম্যাগাজিন ও নারী আন্দোলন

১৯৭২ সালে তিনি নারীদের জন্য ‘মিস’ (Ms.) ম্যাগাজিন চালু করেন, যা ছিল সেই সময়ে প্রথাগত নারী ম্যাগাজিনগুলোর বিপরীতে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। ম্যাগাজিনটির প্রথম সংখ্যাই প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। এছাড়া গর্ভপাতের অধিকার আদায়ে তার সোচ্চার ভূমিকা এবং ‘রিপ্রোডাক্টিভ ফ্রিডম’ বা প্রজনন স্বাধীনতার ধারণা তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়।

ব্যক্তিগত জীবন ও সমালোচনা

স্টাইনেমের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা সময়ে বিতর্ক ও সমালোচনা হয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীকালে রক্ষণশীলদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পরও তিনি দমে যাননি। ২০০০ সালে ৬৬ বছর বয়সে তিনি ডেভিড বেলকে বিয়ে করেন। ২০০৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর একাকী জীবনযাপন করলেও নারী অধিকারের প্রশ্নে তিনি আমৃত্যু সরব ছিলেন।

অর্জন ও উত্তরাধিকার

২০১৩ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছ থেকে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘প্রেসিডেন্টাল মেডেল অব ফ্রিডম’ গ্রহণ করেন। নব্বই বছর বয়সে পৌঁছেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, তার কাজ ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিটি মানুষের অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে নারীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরার ক্ষেত্রে গ্লোরিয়া স্টাইনেমের অবদান আজও প্রাসঙ্গিক ও প্রভাবশালী।

Leave a Comment