এডিএইচডি (ADHD) আক্রান্তদের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে সৃজনশীলতার শক্তি

September 4, 2026

জার্মানির ব্রেমেন শহরের কনস্ট্রাক্টর ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্টিস্ট ড. রাদওয়া খলিল এক গবেষণায় জানিয়েছেন, এডিএইচডি (ADHD) বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মনোযোগের বিক্ষিপ্ততা তাদের সৃজনশীল চিন্তার এক অনন্য উৎস হতে পারে। এই গবেষণার ফলাফল আই-সায়েন্স (iScience) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এডিএইচডি আক্রান্তদের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে এবং সৃজনশীলতার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী, তা এই গবেষণার মূল বিষয়।

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু বা ফোকাস অনেকটা সরু স্পটলাইটের মতো। কিন্তু এডিএইচডি আক্রান্তদের মনোযোগের ক্ষেত্রটি অনেক বেশি বিস্তৃত। এই প্রশস্ত দৃষ্টি বা ‘ডিফোকাসড অ্যাটেনশন’ সাধারণ কাজ বা মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, এটি ভিন্নধর্মী চিন্তা ও নতুন আইডিয়া তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ড. রাদওয়া খলিল বলেন, মনোযোগ সংক্রান্ত সমস্যাগুলোকে কেবল ঘাটতি বা সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু নিউরোসায়েন্স বলছে, এই ভিন্নধর্মী মনোযোগের ধরনটি সৃজনশীলতার পথ খুলে দিতে পারে। শিল্প, সঙ্গীত, নাচ এবং সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে এডিএইচডি আক্রান্তরা তাদের মনোযোগকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারে। এটি তাদের মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোকে শক্তিশালী করে, যা মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ ও আত্মসংযমে ভূমিকা রাখে।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ শতাংশ শিশু এডিএইচডি সমস্যায় আক্রান্ত। গবেষকদের মতে, সৃজনশীল চর্চা কেবল আনন্দের মাধ্যম নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম হিসেবে কাজ করতে পারে। ওষুধ ছাড়া বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড কীভাবে এডিএইচডি আক্রান্তদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে, সেটিই এখন গবেষণার নতুন দিগন্ত। তবে এই বিষয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

Leave a Comment