জার্মানির স্যাক্সোনি-আনহাল্টে আয়োজিত হতে যাওয়া আঞ্চলিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড (এএফডি)। দলটির নেতা উলরিচ সিগমুন্ড জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন। যুদ্ধের পর এই প্রথম জার্মানির কোনো অঙ্গরাজ্যে কট্টর ডানপন্থী কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এএফডির এই জয় দেশটির জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে। রক্ষণশীল দল সিডিইউর এই নেতার জনপ্রিয়তা বর্তমানে নিম্নমুখী। কট্টর ডানপন্থীদের উত্থান ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিপরীতে, এএফডির প্রার্থী উলরিচ সিগমুন্ড তার প্রচারণায় ভোটারদের বিশেষ নজর কেড়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় এএফডি মূলত অভিবাসন সংকট, জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদানের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক ভোটার দীর্ঘদিনের প্রধান ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থা হারিয়ে এএফডির দিকে ঝুঁকছেন। দলটি জিতলে বিদ্যমান রাজনৈতিক ভারসাম্য বা ‘ফায়ারওয়াল’ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এএফডির কর্মসূচি নিয়ে জার্মানিতে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। তারা শরণার্থী শিশুদের জন্য আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করা, স্কুল থেকে এলজিবিটি পতাকা নিষিদ্ধ করা এবং জার্মান ইতিহাসের নাৎসি অধ্যায় কমিয়ে ইতিবাচক দিকগুলো বেশি শেখানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়াও অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্যাক্সোনি-আনহাল্টের এই শাখাকে কট্টর ডানপন্থী এবং জাতিগত বিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও এএফডি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের রক্ষণশীল দল হিসেবে দাবি করছে। নির্বাচনে জয়ী হলে এএফডি প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারে প্রভাব বিস্তার ও নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালনের সুযোগ পাবে।