কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর প্রশাসন গত সপ্তাহে বিদেশিদের পরিচালিত ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর সৃষ্ট আতঙ্কে শত শত বুরুন্ডিয়ান নাগরিক দেশে ফেরার জন্য দূতাবাসের সামনে ভিড় করলে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেনিয়া সরকারের নতুন এই আদেশের ফলে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশিরা বিপাকে পড়েন। সোমবার বুরুন্ডির দূতাবাসের সামনে হাজারো মানুষের ভিড় জমে যায়, যাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর থেকে প্রতিবেশীরা তাদের হুমকি দিচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় প্রায় ১৬ হাজার বুরুন্ডিয়ান নাগরিক ও শরণার্থী বসবাস করছেন, যাদের বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন।
নিবন্ধনের সুযোগ ও আইনি সুরক্ষা
প্রেসিডেন্ট রুটোর প্রশাসনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেনিয়ায় বসবাসরত পূর্ব আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নাগরিক এবং বিশেষ করে বুরুন্ডিয়ানদের নিজ নিজ দূতাবাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। এই নিবন্ধন চলাকালীন সময় পর্যন্ত সবাইকে আইনি বৈধতা দেওয়া হবে। সরকার জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা।
নিরাপত্তা ও সতর্কবার্তা
সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো বিদেশি নাগরিক হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার না হন। কেনিয়ার কনিষ্ঠ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরির সিং’ওই দূতাবাসের সামনে উপস্থিত হয়ে বুরুন্ডিয়ানদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কোনো পক্ষ যেন এই পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে বর্ণবাদী মনোভাব বা সহিংসতা উসকে দিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রুটোর সমালোচকদের মতে, আগামী বছরের নির্বাচনের আগে দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে নজর সরাতে তিনি বিদেশিদের দায়ী করছেন। তবে সরকারের দাবি, বিদ্যমান নীতিগুলো মূলত অভিবাসীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই নেওয়া হয়েছে।