ইসরায়েলি বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞা: কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল সম্পর্ক

September 9, 2026

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দখলকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোতে পণ্য উৎপাদন ও বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণার পর যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবনতি দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছেন, যা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ২০২৪ সালের রায় অনুযায়ী দখলদারিত্ব অবৈধ বলে গণ্য হওয়ায় যুক্তরাজ্যসহ ১২টি দেশ যৌথভাবে এই নতুন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের পরপরই ইসরায়েল অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া এবং গাজায় ত্রাণ ও স্থিতিশীলতা কার্যক্রম সমন্বয়কারী আন্তর্জাতিক কেন্দ্র থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে নেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছেন।

নীতিগত পরিবর্তন

ব্রিটেন এতদিন বসতিগুলোকে অবৈধ বলে আসলেও সেগুলোর পণ্যের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। কিন্তু এড মিলিব্যান্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে বসতিগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থায়নকারী কোম্পানিগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। মিলিব্যান্ড নিজের ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে বলেন, একজন ব্রিটিশ ইহুদি হিসেবে তিনি ইসরায়েলকে সমর্থন করলেও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি জাতিগত নিধনের ঘটনাকে আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

ভবিষ্যৎ প্রভাব

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে সম্পর্কের একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থানের কারণে ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। ইসরায়েলের বর্তমান মিত্র ওয়াশিংটন এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment