স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান রেসপিরেটরি সোসাইটির সম্মেলনে উপস্থাপিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি ওষুধের মূল উপাদান সেমাগ্লুটাইড অ্যাজমার প্রকোপ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ন্যাশনাল হার্ট অ্যান্ড লাং ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ক্লো ব্লুমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় এই ওষুধের ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি সামনে এসেছে।
গবেষকরা যুক্তরাজ্যের রোগীদের মেডিকেল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখেন যে, যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা স্থূলতার কারণে জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট হিসেবে সেমাগ্লুটাইড গ্রহণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে অ্যাজমার আক্রমণ অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম। এছাড়া এই ওষুধ সেবনকারীদের মধ্যে সিওপিডি (COPD) বা ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদী রোগের জটিলতাও প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।
অধ্যাপক ক্লো ব্লুম জানান, গবেষণায় সেমাগ্লুটাইডের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে। মূলত এই ওষুধে থাকা প্রদাহবিরোধী উপাদান ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই গবেষণার ফলাফল সরাসরি চিকিৎসার নতুন পথ হিসেবে ব্যবহারের আগে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক ক্লো ব্লুম স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই তথ্যগুলো বেশ আশাব্যঞ্জক হলেও, কেবল অ্যাজমা বা সিওপিডি চিকিৎসার জন্য রোগীদের এখন থেকেই এই ওষুধ গ্রহণ শুরু করা উচিত নয়। এর কার্যকারিতা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজন রয়েছে।
ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসপিরেটরি মেডিসিনের সিনিয়র লেকচারার ড. আলেকজান্ডার ম্যাথিওডাকিস এই গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, স্থূলতা এবং বিপাকীয় সমস্যাগুলো শ্বাসতন্ত্রের রোগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। তাই ভবিষ্যতে শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর মেটাবলিক বা বিপাকীয় ওষুধের প্রভাবগুলো আরও বিশদভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।