ইয়েমেনের উপকূলে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ: লোহিত সাগরে বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ

September 11, 2026

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হাতে। দেশটির বন্দর নগরী মোখাসহ বাব আল-মান্দেব শিপিং গেটওয়ের দখল নেওয়ার মাধ্যমে গোষ্ঠীটি তাদের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের বড় সাফল্য নিশ্চিত করেছে। এই নিয়ন্ত্রণ আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইয়েমেনের সরকার এবং তাদের সমর্থক সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের এই সাফল্যকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক উন্নয়ন বলে অভিহিত করছেন বিশ্লেষকরা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

লোহিত সাগরের এই অংশটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, যার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য পরিবাহিত হয়। হুতিদের এই অগ্রযাত্রা সৌদি আরবের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ রিয়াদ বর্তমানে তাদের তেল রপ্তানির জন্য এই জলপথের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। এছাড়া, এই নিয়ন্ত্রণ ইরানকে ওয়াশিংটনের সাথে চলমান বিরোধে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সামরিক সক্ষমতা ও অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, হুতি বাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে এবং তাদের কাছে এখন অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই এলাকা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভাজন হুতিদের দ্রুত বিজয়ে সহায়তা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব আকাশপথে পাল্টা আক্রমণ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত হুতিদের অগ্রযাত্রা থামানো সম্ভব হয়নি। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কয়েক দফা কথা বলে বিমান হামলার অনুরোধ জানালেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment