যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলেতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা বাদুড়ের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দীর্ঘায়ু হওয়ার নতুন রহস্য উন্মোচন করেছেন। গবেষক হুয়ান ম্যানুয়েল ভাজকুয়েজ ও তার দল এই গবেষণার মাধ্যমে জানিয়েছেন, বাদুড় কীভাবে ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করে দীর্ঘ জীবন লাভ করে। এই আবিষ্কার বার্ধক্যজনিত রোগ থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখার নতুন পথ দেখাতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘজীবী বাদুড়গুলোর শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধী জিনের উচ্চ উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে মাইওটিস (Myotis) প্রজাতির বাদুড়গুলোর জিন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সংক্রমণ ও টিউমার দমনে অত্যন্ত কার্যকর। এই বাদুড়গুলো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার পাশাপাশি বয়সের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অবনতি রোধ করতে সক্ষম।
গবেষণা অনুযায়ী, বাদুড়ের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো ডিএনএ মেরামতের চেষ্টা না করে বরং দ্রুত ওই ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এই বিশেষ কৌশলটি তাদের ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা দেয়। ভাজকুয়েজের মতে, বাদুড়ের এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা কৌশল মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসার উৎস হতে পারে।
বাদুড় তাদের দীর্ঘ জীবনকালে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের সঙ্গে বসবাস করতে পারে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে বাদুড়ের এই জৈবিক পার্থক্যের বিষয়টি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগ ও বার্ধক্যজনিত জটিলতা নিরসনে নতুন কৌশল উদ্ভাবনে সহায়ক হবে।