তুরস্কের ১২টি প্রদেশে এলজিবিটি কর্মীদের বাড়ি ও বিভিন্ন বারে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ৪৭ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। সরকারি ভাষ্যমতে, ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ বা ‘মাই ফ্যামিলি ইজ সেফ’ নামক প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে, যার লক্ষ্য পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। মানবাধিকার কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে।
ইস্তাম্বুলের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযানে ২৬ জনকে আটক করার পাশাপাশি মাদক, ডিজিটাল সরঞ্জাম, অবৈধ অ্যালকোহল ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে আঙ্কারার প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, এলজিবিটি অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘কাওস জিএল’-এর বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে আরও ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে ‘কাওস জিএল’ দাবি করেছে, তাদের ৫০ জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের প্রেক্ষাপট
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, ‘পরিবারের দশক’ ক্যাম্পেইনের আওতায় ১৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তি এবং বেশ কিছু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিভিন্ন অনলাইন পোস্টে অশ্লীলতা প্রচারের মাধ্যমে শিশুদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এসব সংস্থা। তাই ‘কাওস জিএল’-সহ প্রায় ১৫টি সংগঠনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটিতে সমলিঙ্গের সম্পর্ক অপরাধ হিসেবে গণ্য না হলেও সমকামিতা নিয়ে তীব্র সামাজিক নেতিবাচকতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এলজিবিটি মানুষদের পরিবার ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন।
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া
তুর্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশন এই সরকারি অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, সরকারি এই ক্যাম্পেইনের আড়ালে মূলত এলজিবিটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য পারিবারিক সুরক্ষা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বৈষম্য তৈরি করা, ভয়ের রাজনীতি ছড়ানো এবং সুশীল সমাজকে দুর্বল করা।