রেডিট পোস্ট বিশ্লেষণ করে ওজন কমানোর ওষুধের নতুন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আভাস পেলেন গবেষকরা

September 13, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ওজেম্পিক, উইগোভি, মাউন্টজারো ও জেপবাউন্ডের মতো ওজন কমানোর ওষুধ সেবনকারীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার তথ্য উদঘাটন করেছেন। প্রায় ৪ লাখ রেডিট পোস্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষক দলটি এমন কিছু উপসর্গের খোঁজ পেয়েছেন, যা অনেক সময় চিকিৎসকদের নজরে আসে না বা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সেভাবে উঠে আসে না।

গবেষণায় প্রায় ৭০ হাজার ব্যবহারকারীর পাঁচ বছরের বেশি সময়ের পোস্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অনেক ব্যবহারকারী মাসিক চক্রে পরিবর্তন, কাঁপুনি, হট ফ্ল্যাশ এবং ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভুগছেন। নেচার হেলথ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার প্রধান লেখক নীল সেহগাল জানিয়েছেন, এই ওষুধগুলোর কারণেই যে এমনটা ঘটছে তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও, প্রাপ্ত তথ্যগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনার দাবি রাখে।

গবেষক দলের সদস্য শরথ চন্দ্র গুন্টুকু জানান, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এটিকে কম্প্যুটেশনাল সোশ্যাল লিসেনিং হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গবেষকরা বলছেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলো সাধারণত ওষুধের সবচেয়ে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো চিহ্নিত করতে পারে, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে রোগীরা যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন, সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি উঠে আসে।

তবে গবেষকরা সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, রেডিট ব্যবহারকারীদের তথ্য পুরো বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করে না। তাদের মতে, এই ওষুধগুলো মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে কাজ করে, যা শরীরের হরমোন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই জৈবিক সম্পর্কের কারণেই মাসিক ও শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তনগুলো নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি কোনোভাবেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিকল্প নয়, তবে দ্রুত নতুন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শনাক্ত করার জন্য এই এআই পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Comment