যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যেই বিদেশি বিনিয়োগ টানতে মরিয়া কানাডা

September 14, 2026

কানাডার টরন্টোয় আয়োজিত ‘কানাডা ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ যোগ দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে কানাডাকে একটি লাভজনক ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

কার্নির মূল লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে কানাডায় প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। এর মধ্যে ২৮০ বিলিয়ন ডলার সরকারি বিনিয়োগ ও প্রণোদনা থাকবে, যার মাধ্যমে বেসরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। টরন্টোয় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পেনশন তহবিল, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এবং বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

কেন এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের কারণে কানাডার অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এতদিন কানাডার রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যেত। তবে সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ওয়াশিংটন কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর জবাবে অটোয়াও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে কার্নি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিশ্ববাজারের সাথে আরও সংহত করার কৌশল গ্রহণ করেছেন।

বিনিয়োগের ক্ষেত্র

সম্মেলনে খনি, পাইপলাইন, বন্দর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদনসহ ১৬৭টি সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্পের তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছে। কার্নির দাবি, ৫৩টি দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কানাডা বর্তমানে বিশ্বের দেড়শ কোটি গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছানোর সুবিধা পাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয়।

চ্যালেঞ্জ ও সংশয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নির্ভর করবে প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর। কানাডায় অবকাঠামো প্রকল্পের অনুমোদনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ। যদিও প্রধানমন্ত্রী কার্নি জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে বড় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দ্রুত করতে সরকার বিশেষ সেল গঠন করেছে।

এদিকে এই সম্মেলনের বিরুদ্ধে কানাডার অভ্যন্তরে বিতর্কও রয়েছে। এনডিপি নেতা আভি লুইসসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী ও শ্রম সংগঠনের অভিযোগ, সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে দেশের বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তুলে দিয়ে অর্থনীতি বেসরকারিকরণ করছে। সম্মেলনের বাইরে ‘দ্য মেনি ভার্সেস দ্য মানি’ ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

Leave a Comment