দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কেম্পটন পার্ক এলাকায় গত দুই মাসে সাতজন নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অপরাধীদের কোনো ছাড় না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একের পর এক নারীদের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে নিখোঁজ হওয়া এলিজাবেথ মোসেলাকগোমো নামে একজন দৌড়বিদের মরদেহ শনিবার পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া সাতজন নারীর বেশিরভাগের শরীরই আংশিক বা সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ছিল।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসা বলেন, এই ঘটনাগুলো জনমনে ভয়ের সৃষ্টি করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান প্রেসিডেন্ট।
পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগ্রেডিয়ার আথলেন্ডা মাথে জানান, এই হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে কোনো সিরিয়াল কিলার জড়িত কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত একটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার হার বিশ্ব গড়ের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। জোহানেসবার্গের কেম্পটন পার্ক এলাকার নারীদের একা হাঁটা বা দৌড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে নির্জন এলাকায় চলাচল না করতে সতর্ক করা হয়েছে।
দেশটির জেন্ডার ইকুয়ালিটি কমিশন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার নারীরা এমন এক পরিবেশে বাস করছেন যেখানে দৈনন্দিন চলাচলও জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীরা যেন ভয় ছাড়াই চলাচল করতে পারেন, সেজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের পুলিশের সাথে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।