দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে অবস্থিত হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হাইপাই আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট বিশাল মেঘ বায়ুমণ্ডলের মিথেন গ্যাস ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কারটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণাটি নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ জনসন এবং তার সহকর্মীরা স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগ্নেয়গিরির ছাই এবং সমুদ্রের নোনা জল সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে এক বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়, যা মিথেন অণু ভেঙে ফেলে।
অগ্ন্যুৎপাতের সময় আগ্নেয়গিরিটি প্রায় ৩০০ গিগাগ্রাম মিথেন নির্গত করেছিল, যা দুই মিলিয়ন গরুর বার্ষিক নিঃসরণের সমান। তবে একই সাথে এর সৃষ্ট মেঘ বায়ুমণ্ডল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ মেগাগ্রাম মিথেন সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ফরমালডিহাইডের উপস্থিতিকে মিথেন ধ্বংসের প্রধান সূচক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মিথেন কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস, যা বৈশ্বিক উষ্ণতায় বড় ভূমিকা রাখে। গবেষকরা বলছেন, প্রকৃতির এই প্রক্রিয়াটি কৃত্রিমভাবে কাজে লাগানো গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি ধীর করার ক্ষেত্রে একটি জরুরি ব্রেক হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। তবে এটি কার্বন ডাই অক্সাইড হ্রাসের বিকল্প নয় বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।
ভবিষ্যতে এই প্রাকৃতিক মডেলটি অনুসরণ করে মিথেন অপসারণের প্রযুক্তি তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। এছাড়া, বায়ুমণ্ডলের মিথেন বাজেট বা ভারসাম্যের হিসাব পুনর্নির্ধারণেও এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন গবেষক দল।