কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সামনে কানাডাকে একটি ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে কানাডা নতুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নিজেকে গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ১০০টিরও বেশি বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সামনে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
আগামী পাঁচ বছরে কানাডায় ১ ট্রিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে ১৬০টিরও বেশি প্রকল্প প্রদর্শিত হয়েছে, যার মধ্যে ডাটা সেন্টার, পাইপলাইন এবং বন্দর সম্প্রসারণের মতো খাতগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারি উদ্যোগ
বড় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য নতুন কর সুবিধা ও নিয়মকানুনে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি নীতিমালায় নিশ্চয়তা বজায় রাখা হবে এবং প্রকল্প পর্যালোচনার জন্য এক বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। এছাড়াও টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, মন্ট্রিল ও ক্যালগারি—এই চারটি প্রধান বিমানবন্দরের পরিচালনায় বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির বড় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের সাথে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে কার্নি বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী হিসেবে সবসময় একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার থাকবে। তবে বাণিজ্য যুদ্ধের এই সময়ে সরকারি সম্পদ ও অবকাঠামো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে কানাডিয়ান লেবার কংগ্রেস।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিনিয়োগ সম্মেলন শেষে প্রধানমন্ত্রী কার্নি ইউরোপ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন নতুন বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যেই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।