জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মহাকাশে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের প্রভাব নিয়ে নতুন এই তথ্য উন্মোচন করেছেন। গবেষক সাতোশি ইয়ামাদার নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ব্ল্যাকহোল থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এই শক্তি গ্যালাক্সির সীমানা ছাড়িয়ে প্রায় ৩ লক্ষ আলোকবর্ষ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে, যা মহাজাগতিক পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে এক্স-রে অ্যাস্ট্রোনমি স্যাটেলাইট এক্স-রিসম (XRISM)। এর মাধ্যমে পৃথিবী থেকে ৩৪০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘এইচ১৮২১+৬৪৩’ নামের একটি কোয়েসার পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোয়েসার হলো সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল দ্বারা পরিচালিত অত্যন্ত উজ্জ্বল মহাজাগতিক বস্তু, যা প্রচুর গ্যাস গ্রাস করে।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ব্ল্যাকহোলটি তার চারপাশের উত্তপ্ত গ্যাসকে প্রবলভাবে আন্দোলিত করছে। এই আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট শক্তির পরিমাণ কয়েকশ কোটি সুপারনোভার বিস্ফোরণের সমান। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ব্ল্যাকহোল কেবল তার চারপাশের বস্তু টেনে নেয় না, বরং শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ শক্তি মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়। এই শক্তি গ্যালাক্সি এবং গ্যালাক্সি গুচ্ছের গঠন প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে।
প্রকৃতিবিষয়ক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছে। গবেষকদের মতে, ব্ল্যাকহোলগুলো মহাবিশ্বের গ্যাসীয় প্রবাহ ও গতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে, যা আগে কখনো সেভাবে অনুধাবন করা যায়নি।