কেনিয়ার নাইরোবি ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো আফ্রিকান শহর এই বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টটি আয়োজন করার সুযোগ পেল। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এই ঘোষণাকে প্রজন্মের পর প্রজন্মের অ্যাথলেটদের জন্য এক বিশাল জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
লন্ডন ও রোমকে পেছনে ফেলে কেনিয়া এই স্বাগতিক হওয়ার অধিকার অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ২০৩১ সালের চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য জার্মানির মিউনিখকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের প্রেসিডেন্ট লর্ড কো কেনিয়ার প্রস্তাবনাকে আবেগময় এবং অত্যন্ত জোরালো হিসেবে উল্লেখ করেন। অ্যাথলেটিক্সে কেনিয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বিশ্বজুড়ে তাদের অ্যাথলেটদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, কেনিয়ার জনগণের অ্যাথলেটিক্সের প্রতি যে আবেগ, তা দেশটির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কেনিয়া ঐতিহাসিকভাবে দীর্ঘপাল্লার দৌড়ে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়ে আসছে এবং অলিম্পিকসহ বিশ্বমঞ্চে তারা রেকর্ডসংখ্যক পদক জয় করেছে। ইলিউদ কিপচোগে, ডেভিড রুডিশা এবং ফেইথ কিপিয়েগনের মতো বিশ্বখ্যাত অ্যাথলেটদের অবদান এই সফল বিডে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নাইরোবি ইতোমধ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের আফ্রিকান কাপ অব নেশন্স (আফকন) আয়োজনের অংশ হিসেবে কাসারানি স্টেডিয়ামের কাঠামোগত আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, যা ২০২৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও ব্যবহার করা হবে। কেনিয়া সরকার এই আয়োজনের জন্য প্রায় ৭৮ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং নিরাপত্তার বিষয়েও কঠোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
তবে এই আয়োজনের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ব্যবস্থাপনা এবং টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করা অন্যতম প্রধান কাজ। এছাড়া বিগত বছরগুলোতে কেনিয়ার অ্যাথলেটিক্সের ওপর ডোপিংয়ের যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা কাটিয়ে উঠে একটি সফল ও বিতর্কমুক্ত চ্যাম্পিয়নশিপ উপহার দেওয়া এখন দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।