যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারের বেসিংস্টোক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক ইংলিশ ফুটবলার রাহিম স্টার্লিং নিজের বিরুদ্ধে আনা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ স্বীকার করেছেন। গত ২৮ মে হ্যাম্পশায়ারের এম৩ মহাসড়কের কাছে তার ল্যাম্বরগিনি গাড়িটি দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার পর এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলার বিপজ্জনক গাড়ি চালানোর পাশাপাশি নাইট্রাস অক্সাইড রাখা এবং তদন্তের প্রয়োজনে নমুনা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও স্বীকার করে নিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
আদালতে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন স্টার্লিং এম২৫, এম৩ এবং এ৩২৭ সড়কে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এম৩ মহাসড়কের ডিভাইডারে আঘাত করেন এবং পরবর্তীতে এ৩২৭ সড়কের পাশে একটি লে-বাইয়ে থাকা অবকাঠামোর সাথে ধাক্কা খেয়ে তার গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, গাড়ি চালানোর সময় তাকে বেলুনের মাধ্যমে নাইট্রাস অক্সাইড গ্রহণ করতে দেখা গিয়েছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর পুলিশ তার কোলের ওপর দুটি নাইট্রাস অক্সাইড ক্যানিস্টার দেখতে পায়।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশের প্রাথমিক মাদক পরীক্ষায় স্টার্লিংয়ের দেহে গাঁজা বা কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে বেসিংস্টোক পুলিশ স্টেশনে পুনরায় পরীক্ষায় তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা নেশাগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ ধরা পড়ে। এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে নাইট্রাস অক্সাইডে আসক্তির কথা স্বীকার করেন। নিয়ম অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা এড়িয়ে যান। প্রসিকিউটর সাইমন জোনস জানান, ওইদিন সকাল পৌনে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পুলিশ স্টার্লিংয়ের বেপরোয়া গাড়ি চালানো নিয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালতে স্টার্লিংয়ের আইনজীবী জেসন বার্টফেল্ড জানান, তার মক্কেল গুরুতরভাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করছেন না। বিচারক কারস্টি অলম্যান পরবর্তী শুনানির আগে আসামির একটি প্রাক-সাজা প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৫ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত স্টার্লিংকে গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং তাকে নিঃশর্ত জামিন দেওয়া হয়েছে।