কাতারের বিরুদ্ধে গোপন প্রচারণায় ইসরায়েলি সেল

September 16, 2026

ইসরায়েলের তেল আবিবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাবেক মোসাদ কর্মকর্তাসহ প্রায় ৩০ জনের একটি দল কাতারের বিরুদ্ধে একটি গোপন প্রচারণা চালিয়েছিল। হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের শুরুর দিকে এই প্রচারণা চালানো হয়, যা মূলত দোহার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার কয়েক দিন পরই এই প্রচারণা শুরু হয়। প্রচারণায় যুক্ত ব্যক্তিরা মনে করেছিলেন, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কাতার হামাসের ওপর প্রভাব খাটিয়ে গাজায় জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের মুক্ত করতে বাধ্য হবে। এই কার্যক্রমের জন্য ‘ফ্রি দ্য কিডন্যাপিড’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছিল।

প্রচারের কৌশল ও কার্যক্রম

এই প্রচারণায় মনোস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের বিশেষজ্ঞরা যুক্ত ছিলেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে কাতারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ভিডিও তৈরি, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা, গণমাধ্যমে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ভাষায় ওয়েবসাইট খোলা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এক সদস্যকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়, কাতার প্রতি বছর হামাসকে ঠিক কত টাকা দেয়। পরবর্তীতে তারা ‘হামাস ইজ আইএসআইএস’ স্লোগানটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি ছিল একটি ‘বেসামরিক উদ্যোগ’। তবে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোনস আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইসরায়েলি কোনো রাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া এমন প্রচারণা চালানো প্রায় অসম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন বছর ধরেই তিনি কাতারের বিরুদ্ধে এমন একটি প্রচারণার অস্তিত্ব লক্ষ্য করছেন।

প্রচারণা বন্ধের কারণ

শুরুর এক মাস পর আকস্মিকভাবেই এই প্রচারণা বন্ধ হয়ে যায়। অংশগ্রহণকারী একজন সদস্য হারেৎজকে জানিয়েছেন, এক পর্যায়ে তারা আর এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেননি।

কিং’স কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিয়েগ বলেন, এই ঘটনা ইসরায়েল ও কাতারের সম্পর্কের একটি বড় বৈপরীত্য তুলে ধরেছে। একদিকে ইসরায়েল কাতারকে হামাসের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থাপন করে, অন্যদিকে জিম্মি উদ্ধারের জন্য আবার দোহাকেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করছে।

উল্লেখ্য, কাতার বরাবরই হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দোহার দাবি, তাদের সমস্ত সহায়তা গাজার জনগণের জন্য এবং এটি অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে, যা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই অবগত ছিল।

Leave a Comment