ইংল্যান্ডের লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের নতুন টেস্ট কোচ হিসেবে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার স্টিফেন ফ্লেমিং। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সতীর্থ ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে ফ্লেমিং দলের সাম্প্রতিক শৃঙ্খলার অভাব, বেন স্টোকসের অবসর এবং ভবিষ্যতের কোচিং স্টাইল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার এই নিয়োগ বিশ্ব ক্রিকেটে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
দলের শৃঙ্খলা ও মানদণ্ড
ইংল্যান্ড দলের সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরের বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্লেমিং। হ্যারি ব্রুক, বেন ডাকেট ও ব্রাইডন কারসের মতো ক্রিকেটারদের জড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব ঘটনা দলের মনোযোগ নষ্ট করে। তবে জো রুটকে দলের আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দলের সদস্যদের মধ্যে পরিচয়ের সংকট দূর করে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করাই তার প্রাথমিক লক্ষ্য। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত কারসের বিষয়ে তিনি জানান, পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কোচিং দর্শন ও ম্যাককালামের সাথে সম্পর্ক
ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের সাথে নিজের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ফ্লেমিং জানান, তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ম্যাককালামের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট দর্শনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন থাকলেও, নিজের কোচিংয়ে তিনি কিছুটা ভারসাম্য এবং পরিকল্পিত কৌশলের সংমিশ্রণ ঘটাতে চান। ফ্লেমিংয়ের মতে, কেবল বিনোদনমূলক ক্রিকেট নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতি জয় করে ম্যাচ জেতাটাই তার আসল লক্ষ্য।
বেন স্টোকস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জুনে অবসর নেওয়া বেন স্টোকসের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সম্মান জানান নতুন এই কোচ। স্টোকস বর্তমানে তার অবসর জীবন উপভোগ করছেন এবং ডারহামের হয়ে নিজের সময় কাটাচ্ছেন বলে জানান ফ্লেমিং। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে নিয়োগ পাওয়ার পরও কিছু সময় দেরিতে দলের সাথে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি ব্যাখ্যা করেন।
আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ফ্লেমিংয়ের পূর্ণাঙ্গ পথচলা শুরু হবে। অ্যাশেজ সিরিজ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডকে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আকাঙ্ক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, নিজের সেরাটা দিয়ে ইংল্যান্ড দলকে একটি শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল শক্তিতে পরিণত করতে তিনি বদ্ধপরিকর।