এআই ধ্বংসাত্মক নয়, কর্মীদের মধ্যেই বিভক্তি

September 20, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে কাজ করা শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মীই মনে করেন না যে, এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে। ওপেনএআই, মেটা এবং ডিপমাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করা একাধিক কর্মী বিবিসিকে জানান, অনিয়ন্ত্রিত এআই প্রযুক্তি মানুষকে ব্যাপকভাবে হত্যা করতে পারে—এমন ধারণাকে তারা খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাম্প্রতিক বেশ কিছু সতর্কবার্তার প্রতিক্রিয়ায় অনেকে হাসাহাসি করেছেন বলে প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে।

কেন এই আশঙ্কা?

সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিকের একজন প্রাক্তন কর্মী জ্যাকব কক্সনের একটি মন্তব্য ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানান। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। মূলত এআই বট বা এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে গিয়ে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে—এমন ধারণা থেকেই এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনেক কর্মীই মনে করেন, এই দাবিগুলো অস্পষ্ট এবং তাত্ত্বিক।

নিরাপদ ব্যবহারের গুরুত্ব

ডিপমাইন্ডের প্রাক্তন কর্মী এবং সম্পুরা রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা ঋষভ জৈন জানিয়েছেন, এআই নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে এই ভয় নতুন নয়। তবে বর্তমানে প্রযুক্তি কর্মীরা এআই-এর অস্তিত্বগত ঝুঁকির চেয়ে বরং বাস্তব ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকিগুলো মোকাবিলার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে হ্যাকারদের হাত থেকে সুরক্ষা এবং সামরিক ক্ষেত্রে এআই-এর অপব্যবহার রোধ করা।

পরবর্তী পদক্ষেপ

বর্তমানে এআই শিল্পে একটি ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে যে, নতুন মডেলগুলো মূল্যায়নের জন্য বাইরের নিরপেক্ষ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও, এখন পর্যন্ত বাস্তবে কোনো নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞকে ল্যাবগুলোতে নিয়োগের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ওপেনএআই-এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর এআই সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রযুক্তি খাত।

Leave a Comment