এরিথ্রিয়ার রাজধানী আসমারায় ২৫ বছর আগে সরকারের সমালোচনা করে আটক হওয়া রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরা আজও তাদের বাবা-মায়ের ভাগ্যের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আটক ব্যক্তিদের অন্যতম পেত্রোস সলোমন ও তার স্ত্রী আসতের ইয়োহানেস। তাদের কন্যা হান্না পেত্রোস সলোমন জানিয়েছেন, দুই যুগ আগে তার বাবাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এরপর তার মাকেও আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের বেঁচে থাকা বা অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্যই পরিবারের কাছে নেই।
পেত্রোস সলোমন ও আসতের ইয়োহানেস এরিথ্রিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর পেত্রোস সরকারের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের মে মাসে তিনিসহ ১৫ জন উচ্চপদস্থ নেতা দেশটির প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ার্কির কাছে একটি খোলা চিঠিতে সংবিধান বাস্তবায়ন ও জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানান। এই নেতাদের ‘জি-১৫’ নামে ডাকা হয়।
প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে নিরাপত্তা বাহিনী আসমারায় অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক করে। সেই সময়ে ১০ বছর বয়সী হান্না তার বাবাকে সর্বশেষ ট্র্যাকস্যুট পরা অবস্থায় দেখেছিলেন। এরপরই তার বাবা নিখোঁজ হন। তার মা আসতের ইয়োহানেস সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। পরে তিনি দেশে ফিরে এলে তাকেও বন্দি করা হয়।
বর্তমানে ৩৫ বছর বয়সী হান্না সলোমন এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি জানান, তার বাবার সাথে আটক অন্যদের পরিণতি সম্পর্কে এরিথ্রিয়া সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাদের কোনো বিচার ছাড়াই বন্দি রাখা হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তাদের ‘বন্দি বিবেক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
একইভাবে নিখোঁজ রাজনীতিক মাহমুদ আহমেদ শেরিফোর ছেলে ইব্রাহিম শেরিফোর অভিজ্ঞতাও একই রকম। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালকে তিনি এরিথ্রিয়ার জন্য একটি অন্ধকার দিন হিসেবে বর্ণনা করেন। ইব্রাহিমসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল একটাই দাবি জানান, তাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন কি না, সরকার যেন অন্তত সেই তথ্যটুকু তাদের জানায়।