যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, জটিল ও আন্তঃসংযুক্ত ব্যবস্থায় সব কিছু নিখুঁত বা অভিন্ন হওয়ার চেয়ে কিছুটা অগোছালো বা ভিন্নতা থাকা বেশি কার্যকর হতে পারে। গবেষক আদিলসন মোটরের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যুৎ গ্রিড, বাস্তুসংস্থান (ইকোসিস্টেম) এবং বিভিন্ন উন্নত উপাদানের স্থিতিশীলতা বাড়াতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা বা অসামঞ্জস্য একটি নকশাগত সুবিধা হিসেবে কাজ করে। সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকৃতিতে কেন সবকিছু সুষম বা নিখুঁত নয়, তার একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে।
গবেষণার পটভূমি
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা ধারণা করতেন যে, কোনো নেটওয়ার্ক বা জটিল ব্যবস্থার প্রতিটি অংশ যদি একে অপরের মতো আচরণ করে, তবেই তা সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য হবে। কিন্তু বাস্তব জগতের সিস্টেমগুলো সাধারণত এমন হয় না। যেমন—পাওয়ার গ্রিডে জেনারেটরগুলো ভিন্নভাবে কাজ করে, আবার প্রকৃতির বাস্তুসংস্থানে প্রতিটি প্রজাতির ভূমিকা ভিন্ন। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানীরা একটি গাণিতিক কাঠামো তৈরির মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, উপাদানগুলোর মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকলে সিস্টেমটি বাইরের যেকোনো আঘাতে ভেঙে পড়ার বদলে বরং টিকে থাকার ক্ষমতা বেশি অর্জন করে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
গবেষকদের মতে, পুরোপুরি অভিন্ন বা নিখুঁত ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল ভাবা হলেও বাস্তবে সেগুলো হঠাৎ বড় কোনো চাপের মুখে ভেঙে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সিস্টেমে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় বিশৃঙ্খলা থাকলে তা সিস্টেমকে আরও স্থিতিস্থাপক করে তোলে। এই তথ্য ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারদের আরও শক্তিশালী পাওয়ার গ্রিড এবং উন্নত প্রযুক্তি তৈরির কৌশল শিখতে সাহায্য করবে। এমনকি প্রকৃতির বিশাল বাস্তুসংস্থান কেন শত প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকে, তার একটি যৌক্তিক কারণও এই গবেষণায় উঠে এসেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গবেষণার প্রধান আদিলসন মোটর জানান, এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো এই বিশৃঙ্খলা বা ভিন্নতাকে কীভাবে সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো যায়। গবেষকরা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মও তৈরি করেছেন, যেখানে ব্যবহারকারীরা গাণিতিক প্যারামিটার পরিবর্তনের মাধ্যমে দেখতে পারবেন কীভাবে ভিন্নতা একটি নেটওয়ার্ককে আরও সুসংগঠিত করে তোলে। এই গবেষণায় পোস্টডক্টরাল গবেষক আর্থার মন্টানারি এবং গ্র্যাজুয়েট ছাত্র পিয়েত্রো জানিন সহ-প্রথম লেখক হিসেবে কাজ করেছেন।