যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে যে বিমান হামলাগুলো চালিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার বেন সল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জলসীমার বাইরে অন্তত ৬৮টি হামলার ঘটনায় ২২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বেন সল তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য হলেও, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের মতো কোনো সশস্ত্র হামলার ঘটনা তারা ঘটাননি। তিনি এই হামলাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, আত্মরক্ষা বা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন—কোনোটির মাধ্যমেই এসব হামলাকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী অবশ্য এই অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে চারজন মাদক পাচারকারীকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে দাবি করেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে জানিয়েছিলেন, ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো গোলার্ধ থেকে মাদক-সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা এবং মার্কিন নাগরিকদের মাদক থেকে রক্ষা করা।
তবে জাতিসংঘ বলছে, এই অভিযানগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। র্যাপোর্টার বেন সলের মতে, ৬৮টি হামলার মাধ্যমে ২২৩ জনকে হত্যার ঘটনা প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ বা হত্যার শামিল। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে বিবিসি।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামে এই বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। শুরু থেকেই ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নেতারা এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও কলম্বিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই অভিযানের তীব্র সমালোচক ছিলেন। যদিও চলতি বছরের শুরুর দিকে মাদুরোকে কারাকাস থেকে মার্কিন বাহিনী আটক করে এবং আগস্ট মাসে কলম্বিয়ায় সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়।