বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার দুই ধনকুবেরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউক্রেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসনের পর ওই দুই ধনকুবেরের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ইইউ। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এর ফলে রাশিয়া একটি ভুল বার্তা পেল এবং ইউরোপের ঐক্য দুর্বল হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে যাদের নাম সরানো হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম রাশিয়ান-উজবেক বিলিয়নেয়ার আলিশের উসমানভ। ফ্রান্সের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে তার নাম সরানোর পক্ষে তদবির করা হয়েছিল। অন্যদিকে, লুক্সেমবার্গের কাছে জব্দকৃত সম্পদ ফেরত পেতে আইনি লড়াই করা রাশিয়ান-ইসরায়েলি ব্যবসায়ী মিখাইল ফ্রিডম্যানের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ছে।
শুরুতে লাটভিয়া এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করলেও পরে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি হয়। সমঝোতার অংশ হিসেবে ইইউ অন্য প্রায় ৩ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়ে দিয়েছে। লাটভিয়া জানিয়েছে, তারা নিজেদের জাতীয় পর্যায়ে ওই দুই ধনকুবেরের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখবে।
উসমানভ মূলত ইউএসএম হোল্ডিং কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা, যা লৌহ, ইস্পাত ও তামা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। অন্যদিকে ফ্রিডম্যান আলফা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, যা রাশিয়ার জ্বালানি ও ব্যাংকিং খাতের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত মস্কোকে দায়মুক্তি দিচ্ছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করছে।