ইরানের রাজধানী তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসন এবং ব্যর্থ হওয়া আলোচনা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি তেহরানে ইরান সরকারের সাথে আলোচনায় বসছেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো সংঘাত নিরসন এবং সংলাপের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।
কূটনৈতিক তৎপরতা
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান সফরে আসা বিদেশি প্রতিনিধিরা উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে গত সোমবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির তেহরান সফর করেন। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদিও তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে বৈঠক করেছেন।
হরমুজ প্রণালী ও অবরোধ
কাতারের প্রধানমন্ত্রী এই সফরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা করবেন। গত মার্চ থেকে ইরান এই জলপথটি বন্ধ করে রাখায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট দেখা দিয়েছে। ওমানের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে ইরান অস্থায়ীভাবে একটি নতুন জাহাজ চলাচলের পথ চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে না বলে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে।
বর্তমান সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে ওয়াশিংটন সামরিক হামলার চেয়ে অর্থনৈতিক চাপের কৌশলে গুরুত্ব দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আলোচনা শুরুর বিষয়ে তাড়াহুড়ো করতে চান না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের ফিরিয়ে আনা শুরু করবে, যা উত্তেজনা কিছুটা হ্রাসের ইঙ্গিত হতে পারে।
ইরানের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সংঘাত নিরসনের পক্ষে মত দিয়েছেন, তবে দেশটির সামরিক নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন।