যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্টেন ভিউতে অবস্থিত গুগল কর্তৃপক্ষ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কিছু নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সুরক্ষার ফিচার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। ২০২৫ সালের পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৭৫ শতাংশ আমেরিকান বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ভিশিং বা জালিয়াতির মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ফোন সুরক্ষিত রাখার অন্যতম সহজ উপায় হলো নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা। সেটিংসে গিয়ে ‘অ্যাবাউট ফোন’ অপশন থেকে অপারেটিং সিস্টেম ও সিকিউরিটি প্যাচ আপ-টু-ডেট আছে কি না তা যাচাই করা যায়। পাশাপাশি গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হওয়ার সেটিংস চালু রাখা জরুরি।
গুগল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন সক্রিয় করা এবং ফোনের ডেটা সুরক্ষায় অটোমেটিক ব্যাকআপ চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা, লক করা বা তথ্য মুছে ফেলার জন্য ‘ফাইন্ড হাব’ (Find Hub) ফিচারটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে লোকেশন পারমিশন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতারণামূলক কল ও বার্তা শনাক্ত করতে অ্যান্ড্রয়েডের নিজস্ব এআই-চালিত ‘স্ক্যাম ডিটেকশন’ টুলটি বেশ কার্যকর। বর্তমানে এই ফিচারটি গুগল পিক্সেল ফোনে থাকলেও পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ফোনেও এটি যুক্ত করা হচ্ছে। মেসেজের ক্ষেত্রে স্প্যাম প্রোটেকশন চালু থাকলে সন্দেহজনক বার্তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।
ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় অ্যাপ পারমিশন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটিংসের ‘পারমিশন ম্যানেজার’ থেকে কোন অ্যাপ কী ধরনের তথ্য যেমন—ক্যামেরা, লোকেশন বা কন্টাক্টস ব্যবহার করছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া অনেক দিন অব্যবহৃত থাকা অ্যাপগুলোর ডেটা অ্যাক্সেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়ার অপশনটিও কার্যকর।
বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারিং কমানোর জন্য অ্যাডস প্রাইভেসি সেটিংসে গিয়ে টপিক ও পারসোনালাইজেশন বন্ধ করা যেতে পারে। গুগল প্লে প্রটেক্ট ফিচারটি সব সময় চালু রাখা উচিত, যা ক্ষতিকর অ্যাপ বা ম্যালওয়্যার থেকে ফোনকে রক্ষা করে।
ফোন চুরি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে অ্যান্ড্রয়েডের থিফ প্রোটেকশন ফিচারগুলো ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। থিফট ডিটেকশন লক, অফলাইন ডিভাইস লক এবং আইডেন্টিটি চেক ফিচারগুলো ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এসব ফিচারের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের স্মার্টফোনকে সাইবার অপরাধীদের কবল থেকে রক্ষা করতে পারেন।