যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে সনি দাবি করেছে যে, কোনো ‘যৌক্তিক’ বা সচেতন গ্রাহক ডিজিটাল গেম কেনার মাধ্যমে সেটির প্রকৃত মালিকানা পাওয়ার আশা করতে পারেন না। প্লেস্টেশন স্টোর থেকে গেম কেনা মানে গেমটি নিজের করে পাওয়া নয়, বরং এটি ব্যবহারের জন্য একটি বাতিলযোগ্য লাইসেন্স গ্রহণ করা। ডিজিটাল গেমের মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং গ্রাহকদের সঠিকভাবে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে সনির বিরুদ্ধে জুন মাসে একটি ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
অভিযোগে বলা হয়েছে, সনি তাদের স্টোরে ‘পারচেজ’ বা ‘বাই’ শব্দগুলো ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে। গেম বিক্রির সময় এই লেনদেনটি আসলে মালিকানা হস্তান্তর নয়, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে না সনি। বাদীপক্ষের দাবি, সনি এই শর্তগুলো আলাদা কোনো দীর্ঘ চুক্তিনামায় লুকিয়ে রাখে, যা কেনার আগে গ্রাহকদের নজরে পড়ে না। এতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোক্তা আইন লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সনির যুক্তি
আগস্টের ২১ তারিখে আদালতে জমা দেওয়া জবাবে সনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল গেমের মালিকানা পাওয়ার ধারণা অবাস্তব। সনি যুক্তি দেয়, যদি ডিজিটাল গেম কেনা মানে মালিকানা কেনা হতো, তবে একই গেম একাধিক ব্যক্তি ডিজিটাল স্টোর থেকে কিনতে পারতেন না। কারণ তখন প্রথম ক্রেতাই গেমটির একক মালিক হয়ে যেতেন। সনি তাদের সফটওয়্যার লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট বা এসপিএলএ-র শর্তাবলির দিকে ইঙ্গিত করে জানায়, সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা আছে যে সফটওয়্যারটি বিক্রি করা হয়নি, শুধুমাত্র ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সনি সম্প্রতি তাদের গ্রাহকদের ইমেইলের মাধ্যমে পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ডিজিটাল গেম কেনা মূলত একটি লাইসেন্স গ্রহণের প্রক্রিয়া। এদিকে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে ফিজিক্যাল গেমের উৎপাদন বন্ধ করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যদিও এই ঘোষণা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে সনির এই ডিজিটাল বিক্রয় পদ্ধতি আইনসম্মত কি না।