যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, হংকংভিত্তিক কয়েকটি কোম্পানি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স ব্যবহার করে ইরানের সামরিক খাতে অর্থায়নের জন্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই পাচারের ঘটনায় ৬১ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজেয়াপ্ত করার জন্য একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অর্থ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মতো সামরিক নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাচারের কৌশল
অভিযোগ অনুযায়ী, হংকংভিত্তিক হেক্সা হোয়েল এবং ব্লেসড ট্রাস্ট নামের দুটি কোম্পানি এই পাচার প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। তারা মূলত ইরানের কালো বাজারের তেল চীনা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করত। বাইন্যান্সের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও বিষয়টি ধরা পড়েছিল যে, এসব প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স ব্যবহার করে ইরানের সামরিক বাহিনীকে অর্থ সহায়তা প্রদানকারী নেটওয়ার্কে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করেছে। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের দাবি, লেনদেনের মূল উৎস গোপন রাখতে এসব অর্থ মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে ঘুরিয়ে ইরানে পাঠানো হয়েছিল।
বাইন্যান্সের ভূমিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
বাইন্যান্স ইতোমধ্যে হেক্সা হোয়েল এবং ব্লেসড ট্রাস্টকে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করেছে। উল্লেখ্য, ব্লেসড ট্রাস্ট বাইন্যান্সের একটি ব্যবসায়িক অংশীদার ছিল যারা পেমেন্ট সেবা প্রদান করত। তবে বাইন্যান্সের অভ্যন্তরে যেসব তদন্তকারী এই জালিয়াতি ধরেছিলেন, তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
এর আগেও বাইন্যান্স অর্থ পাচার বিরোধী আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল এবং ২০২৩ সালে বিপুল অংকের জরিমানা প্রদান করে। বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও এ সংক্রান্ত মামলায় চার মাস কারাবাস করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে পূর্ণ ক্ষমা প্রদর্শন করেন। এর বাইরেও বাইন্যান্সের বিরুদ্ধে ইরানি অর্থলগ্নিকারী বাবাক জানজানির মাধ্যমে ৮৫০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে, যা জানজানি অস্বীকার করেছেন।