সিরিয়ার দামেস্কে দেশটির পার্লামেন্ট বাশার আল-আসাদ আমলের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। দেশটির নতুন পার্লামেন্টের এটি অন্যতম প্রধান আইনি পদক্ষেপ। এই আদালত বিলুপ্তির পাশাপাশি এর দেওয়া আগের রায়গুলোর আইনি কার্যকারিতাও বাতিল করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের অধীনে আদালতটি কার্যকর ছিল না, তবে বুধবারের এই ভোটের মাধ্যমে বিষয়টি আইনি রূপ পেল।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আদালতের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ হাজার হাজার মানুষকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচার করেছিলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি আগেই এই আদালতের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গত বছর এই আদালতের ৬৭ জন বিচারককে বরখাস্ত করেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী, আদালতটির অন্যায় রায়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
কুর্দি অঞ্চলে বিক্ষোভ ও অস্থিরতা
আদালত বিলুপ্তির এই আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুর্দি অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার তাল তামর শহরের কাছে এম-৪ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা। এতে কামিশলি ও রেমিলান তেলক্ষেত্র থেকে আসা শত শত তেলবাহী ট্যাংকার আটকা পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, জ্বালানির দাম না কমালে তারা সড়ক খুলে দেবেন না।
সরকার সম্প্রতি পেট্রোলের দাম ৩০ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বানিয়াস শোধনাগারে সংস্কার কাজকে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এদিকে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে (এসডিএফ) সরকারি বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া নিয়ে কুর্দিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এছাড়া সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় কুর্দি ভাষার ব্যবহার নিয়ে সীমাবদ্ধতা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত কাটিয়ে উঠতে প্রেসিডেন্ট আল-শারা দেশটিতে ঐক্য স্থাপনের যে চেষ্টা চালাচ্ছেন, এই ঘটনাগুলো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।