হাঙ্গেরির ডেবরেসেনে ইসরায়েল ও রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কোনো ‘অ্যাওয়ে’ দর্শক থাকার অনুমতি নেই এবং টেলিভিশন সম্প্রচারও সীমিত রাখা হয়েছে। গাজায় চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ম্যাচটি আয়োজন করা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের ফুটবলারদের এই ম্যাচে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটি দেশটির সমর্থক, ক্রীড়াবিদ এবং রাজনীতিবিদদের একাংশের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অফ আয়ারল্যান্ড (এফএআই) এই ম্যাচগুলো খেলার বিষয়ে নিজেদের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ভোটাভুটির আয়োজন করেছিল। সেখানে ১০৭ জন প্রতিনিধির মধ্যে ৭৫ জন ম্যাচ খেলার পক্ষে এবং ৩২ জন বয়কটের পক্ষে ভোট দেন। এফএআই জানিয়েছে, ম্যাচ বয়কট করলে দীর্ঘমেয়াদে আইরিশ ফুটবলের ক্ষতি হতে পারে এবং উয়েফার জরিমানার পাশাপাশি কয়েক মিলিয়ন ইউরো আয়ের উৎস হারানোর ঝুঁকি ছিল। এই পরিস্থিতির কারণে আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই ম্যাচটিতে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার না করার এবং বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ ছাড়াই কেবল খেলা দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ম্যাচটির ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে। ইসরায়েল গত তিন বছর ধরে নিরাপত্তার খাতিরে হাঙ্গেরিকে তাদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এদিকে, আয়ারল্যান্ড তাদের হোম ম্যাচটি সার্বিয়ার বাচকা টোপোলা নামক একটি প্রত্যন্ত শহরে সরিয়ে নিয়েছে, যাতে বিক্ষোভের সম্ভাবনা কমানো যায়। সার্বিয়ার সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক আয়ারল্যান্ডের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই ভেন্যু নির্বাচন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাচটি নিয়ে আইরিশ ম্যানেজার হেইমার হালগ্রিমসন বলেন, তারা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বৈধতা দিচ্ছেন না, বরং খেলার নিয়ম রক্ষা করছেন। তবে তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আয়ারল্যান্ডে ফিলিস্তিনের প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থন রয়েছে এবং দেশটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই ম্যাচটি ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবের ভক্তরা বিক্ষোভ করেছে এবং ১৬০ জনেরও বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ একটি খোলা চিঠিতে ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।