যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে কঠোরতম নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানকে টিকিয়ে রাখা অর্থনৈতিক লাইফলাইনগুলো বিচ্ছিন্ন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই পদক্ষেপটি কেন গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে, কারণ এটি চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট রবিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে লেখা এক কলামে জানিয়েছেন, যারা ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে ভয় পাচ্ছে, তাদের ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের পরিণতির কথা মাথায় রাখা উচিত। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
চীনের অবস্থান ও ঝুঁকি
ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলো চীন। ইরানের তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই যায় চীনের কাছে। বিশ্লেষক ব্রেট এরিকসন মনে করেন, মার্কিন প্রশাসন যদি সত্যিই চীনকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসে, তবে তা প্রমান করবে যে ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চীন ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
বেইজিং বরাবরই ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ে সতর্ক করে বলেছেন, যারা এই নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচিতে অংশ নেবে, তারা ইরানের ‘শত্রু’ হিসেবে গণ্য হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো মার্কিন প্রচারণায় যোগ দিলে পারস্য উপসাগর দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রফতানি হবে না।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের কারণে এই কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব বজায় রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটন বেইজিংকে সরাসরি আঘাত করলে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা রাখে, যা উভয় দেশের জন্যই ক্ষতির কারণ হতে পারে।