কানাডার অন্টারিও প্রদেশের থান্ডার বে শহরে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য চুক্তির জন্য প্রস্তুত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাড়া মিললে যেকোনো সময় আলোচনা শুরু করতে চায় অটোয়া। কার্নির মতে, এমন একটি চুক্তি প্রয়োজন যা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবার, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখবে।
গত মাসে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পেরে ভেঙে যায়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে কানাডাও সমপরিমাণ মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আগামী জানুয়ারি থেকে কানাডীয় গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছে।
মার্কিন বাণিজ্য ও অর্থ দপ্তরের কর্মকর্তাদের মন্তব্য প্রসঙ্গে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন। তবে তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন মনোভাব কিছুটা নমনীয় হয়েছে, যা ইতিবাচক বলে তিনি মনে করছেন।
কার্নির মন্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী তাকে ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন মনোভাব কানাডার অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার রপ্তানি নির্ভরশীলতা গত এক বছরে কমেছে। চলতি জুলাই মাসে কানাডার মোট রপ্তানির ৬৬.৩৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৭২.৬৪ শতাংশ। এই নির্ভরতা কমাতে কার্নি সম্প্রতি ৪.৭ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ব্যয়ে কানাডার নিজস্ব প্রযুক্তিতে ৩০০টিরও বেশি ভায়া রেল প্যাসেঞ্জার ট্রেন তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন।