সুইজারল্যান্ডের পল শেরার ইনস্টিটিউটে (পিএসআই) কর্মরত আন্তর্জাতিক গবেষক দলটি প্রথমবারের মতো কোয়ান্টাম আলোর ক্ষেত্রে অপটিক্যাল ম্যাগনাস ইফেক্টের অস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন। এই গবেষণার ফলাফল ফিজিক্যাল রিভিউ লেটারস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলের সদস্য ফিলিপ লিনডেকার জানান, অতি সূক্ষ্মভাবে ফোকাস করা লেজার রশ্মি যখন কোনো পরমাণুর সাথে মিথস্ক্রিয়া করে, তখন তা ঠিক কেন্দ্রের পরিবর্তে সামান্য পাশ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখায়। অনেকটা টেবিল টেনিস বল স্পিন করলে যেমন বাতাসে বেঁকে যায়, আলোর ক্ষেত্রেও তেমন একটি বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
কোয়ান্টাম কম্পিউটারে লেজার ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কিউবিটের অবস্থা পরিবর্তন করা হয়। গবেষকরা বলছেন, এই নতুন আবিষ্কৃত বিচ্যুতি বা ‘কার্ভবল’ সম্পর্কে আগে ধারণা না থাকায় তা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে ভুল ফলাফলের কারণ হতে পারে। তবে এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে কিউবিটগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করার নতুন পদ্ধতিও উদ্ভাবন করা সম্ভব।
পরীক্ষণ পদ্ধতি
গবেষকরা একটি ক্যালসিয়াম আয়নকে অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রোব হিসেবে ব্যবহার করেছেন। একটি আয়ন ট্র্যাপে আয়নটিকে স্থির রেখে তারা লেজার রশ্মির বিভিন্ন অংশের সাথে সেটির মিথস্ক্রিয়া পরিমাপ করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, লেজারের তীব্রতা যেখানে সবচেয়ে বেশি থাকার কথা, লেজার রশ্মির জটিল তড়িৎচুম্বকীয় কাঠামোর কারণে মিথস্ক্রিয়ার সর্বোচ্চ বিন্দুটি সেখান থেকে সামান্য সরে থাকে। এই ক্ষুদ্র বিচ্যুতি কয়েকশ ন্যানোমিটারের মতো হতে পারে, যা নিখুঁত কোয়ান্টাম গণনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।