সিরিয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

September 15, 2026

সিরিয়ার আলেপ্পোসহ বিভিন্ন শহরে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ মানুষ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কারণেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। দেশটিতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভ সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ, পেট্রোলের দাম অন্তত ২৫ শতাংশ এবং রান্নার গ্যাসের দাম ৯ শতাংশ বৃদ্ধি। সরকার দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সিদ্ধান্ত সাময়িক। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সিরিয়ার পার্লামেন্ট জ্বালানি মন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশিরকে তলব করেছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটিতে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে সফলতা দেখালেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট কাটেনি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে সিরিয়ার ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধি শুধুমাত্র পরিবহন নয়, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা মানুষের বেঁচে থাকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সিরিয়া এখনো জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল জ্বালানি চাহিদার বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন মাত্র ১ লাখ ২ হাজার ব্যারেল। বানিয়াস শোধনাগারের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার বিষয়।

বর্তমানে সিরিয়া সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে। বিশ্বব্যাংক অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪৯১ মিলিয়ন ডলারের অনুদানও দিয়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় সরকারের ওপর জনগণের আস্থা কমছে। সংকট সমাধানে পরিবহন ও কৃষিখাতে ভর্তুকি বা বিশেষ মূল্যে জ্বালানি সরবরাহের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে জনরোষ প্রশমিত করা সম্ভব হয়।

Leave a Comment